বাংলা গানের জগতে আব্দুল হাই আল হাদী ছিলেন এক প্রখ্যাত কালজয়ী গীতিকার ও সুপরিচিত সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব। তিনি আধুনিক, পল্লিগীতি, মারফতি, মুর্শিদী, হামদ-নাত, ভাটিয়ালি এবং চলচ্চিত্রসহ বিভিন্ন ধারায় হাজার হাজার গান রচনা করে গেছেন।
জীবন ও পরিচয়
পারিবারিক পরিচয়: তাঁর বাবার নাম ছিল
আব্দুল করিম সরকার এবং মায়ের নাম সকিনা বেগম।
কর্মজীবন: ১৯৭২ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশ
বেতারের পাণ্ডুলিপি শাখায় দীর্ঘ সময় কর্মরত ছিলেন।তিনি শহীদ নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের
(তৎকালীন যুগের আলো বিদ্যানিকেতন) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক
ছিলেন।
উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয় গানসমূহ
তাঁর রচিত অসংখ্য গান
শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী স্থান করে নিয়েছে। তাঁর লেখা বিখ্যাত কয়েকটি গান:
·
'এক
হৃদয়হীনার কাছে হৃদয়ের দাম কী আছে' — কণ্ঠ: রফিকুল আলম
·
'চন্দনা
গো রাগ করো না'
— কণ্ঠ:
কুমার বিশ্বজিৎ
·
'আমার
যা আছে সবই তোমার' — কণ্ঠ: সৈয়দ আব্দুল হাদী
·
'সাজানো
কথাগুলো এলোমেলো হয়ে যায়' — কণ্ঠ: সুবীর নন্দী
·
'এ
মাটি রক্তে আমার মিশে আছে' — কণ্ঠ: আবিদা সুলতানা
·
'ও
যার অন্তরে বাহিরে কোন তফাৎ নাই' ও 'তুমি
চোখের আড়াল হইলে আমার' — কণ্ঠ: মিতালী মুখার্জি
এছাড়াও রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন, অ্যান্ড্রু কিশোর, মনিরাম, বেবী নাজনীন ও মনির খানের মতো
বিখ্যাত শিল্পীরা তাঁর রচিত গানে কণ্ঠ দিয়েছেন।
চলচ্চিত্রে অবদান ও স্বীকৃতি
তিনি বেতার ও
টেলিভিশনের পাশাপাশি বহু জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে গান রচনা করেছেন।
লিখেছেন ৪৪ হাজার গান-শিক্ষক বাতায়নের
প্রতিবেদন
৪৪ হাজার গানের রচয়িতা গফরগাঁও এর কৃতি সন্তান, প্রখ্যাত সুরকার ও গীতিকার আব্দুল
হাই আল হাদী।
তাকে বাংলাদেশের আধুনিক, পল্লীগীতি, ভাটিয়ালি, মুর্শিদী,মারফতি,বাওইয়া গানের
গীত সম্রাট বলে অভিহিত করা হয়। তিনি ৪৪ হাজার গানের গীত রচনা করে ইতিহাস হয়ে আছেন।
১৯৪০ সালে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাইথল ইউনিয়নের খিলপাড়া গ্রামের
অজপাড়া গাঁয়ে মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আব্দুল করিম সরকার --মাতার
নাম সকিনা বেগম-।
ছোট কাল থেকে বাঁশের বাঁশির সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠে হাদীর।
উদাস দুপুরে বিশাল বটছায় বসে রাখালের মনকাড়া বাঁশির মেঠো সুর
মুগ্ধ হতেন আব্দুল হাই আল হাদী।
বাবা আব্দুল করিম সরকার বাঁশির পিছনে অযথা সময় নষ্ট না করার জন্য ছেলেকে ধমক দিয়ে ছিলেন।
অভিমান করে তিনি একসময় বাড়ি ছেড়ে চলে যান।
তিনি দেউলপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুলে শিক্ষাজীবন শুরু করেন।
কাওরাইদ কেএম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৫৬ সালে মাধ্যমিক পাশ করেন।
কর্মজীবন শুরু করেন ১৯৭২ সালে রেডিও বাংলাদেশ স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবে। খান
আতাউর রহমানের সানিধ্যে এসে বড় প্রাপ্তির সম্মুখীন হন।
এক হৃদয় হীনার কাছে হৃদয়ের দাম কি আছে চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ গীতিকার
হিসেবে জাতীয় চলচিত্র পুরস্কার লাভ করেন। তার রচনায় এই দেশের বিখ্যাত শিল্পীরা
কন্ঠ দিয়েছে।
কন্ঠ দিয়েছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পীরা।
সাবিনা ইয়াসমিন, এন্ড্রু কিশোর, রুনালায়লা,রফিকুল আলম,বেবী নাজনীন সহ দেশি-বিদেশি অনেক শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেন।
তিনি একজন অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী মানুষ ছিলেন।
গীতিকার হিসেবে
অবদান ও বৈশিষ্ট্য
- বৈচিত্র্যময় গানের সম্ভার: তিনি শুধু
এক ঘরানার গানে সীমাবদ্ধ থাকেননি। ইসলামিক গজল, দেশের গান, লোকসঙ্গীত
থেকে শুরু করে আধুনিক সুরের গান—সবক্ষেত্রেই তাঁর স্বচ্ছন্দ বিচরণ রয়েছে।
- সহজ ও সাবলীল ভাষা: তাঁর
গানের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর ভাষা। জটিল কোনো শব্দ চয়ন না করে সহজ ভাষায়
গভীর অনুভূতির সৃষ্টি করা তাঁর গানের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- আধ্যাত্মিক ও ভাবমরমি চেতনা: তাঁর লেখা
অনেক গানেই সুফি ও আধ্যাত্মিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়, যা
শ্রোতাকে আত্মউপলব্ধির দিকে নিয়ে যায়।
উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র: কাজল রেখা , স্বপ্নের নায়ক , নিষ্পাপ বধূ , মিলন হবে কত দিনে , রসের বাইদানী ইত্যাদি।
পুরস্কার: চলচ্চিত্রে গীতিকার হিসেবে
বিশেষ অবদানের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
জীবনাবসান: কালজয়ী এই গীতিকবি ১৯৯৯
সালের ডিসেম্বর মাসে মৃত্যুবরণ করেন।
তথ্যসূত্রঃ
1.
https://share.google/aimode/ymuK4XFA4G26QkVQ6
2.
https://www.musixmatch.com/creator/Abdul-Hai-Al-Hadi-2
3.
https://www.jiosaavn.com/artist/abdul-hai-al-hadi-songs/iyqHvIXcHKQ_
