বংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি পাঠ্যবইয়ের পরিচ্ছেদ ১৮ থেকে ২০ পর্যন্ত

 বংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি পাঠ্যবইয়ের পরিচ্ছেদ ১৮ থেকে ২০ পর্যন্ত বিশেষ্য, সর্বনাম ও বিশেষণ পদ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। নিচে এই তিনটি পরিচ্ছেদ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হলো:

পরিচ্ছেদ ১৮: বিশেষ্য (Noun)

যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে [৫৩]। বিশেষ্যকে ছয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে [৫৩]:

  • নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল ও সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট নাম (যেমন: হাবিব, ঢাকা, বৈশাখ, গীতাঞ্জলি)।
  • জাতি-বিশেষ্য: নির্দিষ্ট কোনো নাম না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নাম (যেমন: মানুষ, গরু, পাখি, নদী)।
  • বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নাম (যেমন: ইট, লবণ, বই, টেবিল)।
  • সমষ্টি-বিশেষ্য: ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায় (যেমন: জনতা, পরিবার, বহিনী)।
  • গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নাম (যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, ধৈর্য)।
  • ক্রিয়া-বিশেষ্য: কোনো কাজ বা ক্রিয়ার নাম (যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন)।

পরিচ্ছেদ ১৯: সর্বনাম (Pronoun)

বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম বলা হয় [৫৫]। সর্বনামকে মূলত নয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায় [৫৫]:

  • ব্যক্তিবাচক: ব্যক্তির পরিবর্তে বসে (যেমন: আমি, তুমি, সে)। এর মধ্যে বক্তা পক্ষ, শ্রোতা পক্ষ ও অন্য পক্ষ বিদ্যমান।
  • আত্মবাচক: কর্তা নিজেই কাজটি করেছে তা বোঝাতে ব্যবহৃত হয় (যেমন: নিজে, স্বয়ং)।
  • নির্দেশক: নিকট বা দূরত্বের নির্দেশ করে (যেমন: এ, এই, ও, ওই)।
  • অনির্দিষ্ট: অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে ব্যবহৃত হয় (যেমন: কেউ, কিছু)।
  • প্রশ্নবাচক: প্রশ্ন তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয় (যেমন: কে, কী, কার)।
  • সাপেক্ষ: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনাম (যেমন: যারা-তারা, যে-সে)।
  • পারস্পরিক: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝায় (যেমন: পরস্পর, নিজেরা নিজেরা)।
  • সকলবাচক: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে ব্যবহৃত হয় (যেমন: সবাই, সকলে, সব)।
  • অন্যবাচক: নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে ব্যবহৃত হয় (যেমন: অন্য, অপর, পর)।

পরিচ্ছেদ ২০: বিশেষণ (Adjective)

যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে [৫৭]। বিশেষণের কিছু উল্লেখযোগ্য প্রকারভেদ হলো [৫৭, ৫৮]:

  • বর্ণবাচক: রঙের নির্দেশ করে (যেমন: নীল আকাশ)।
  • গুণবাচক: গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায় (যেমন: চালাক ছেলে)।
  • অবস্থাবাচক: অবস্থা বোঝায় (যেমন: চলন্ত ট্রেন)।
  • ক্রমবাচক ও পূরণবাচক: সংখ্যার ক্রম বা পর্যায় বোঝায় (যেমন: এক টাকা, তৃতীয় প্রজন্ম)।
  • পরিমাণবাচক: পরিমাণ বা আয়তন বোঝায় (যেমন: আধা কেজি চাল)।
  • উপাদানবাচক: উপাদান নির্দেশ করে (যেমন: পাথুরে মূর্তি)।
  • ভাববাচক বিশেষণ: বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে (যেমন: খুব ভালো খবর)।
  • বিধেয় বিশেষণ: বাক্যের বিধেয় অংশে বসে (যেমন: লোকটা পাগল)।

এই পরিচ্ছেদগুলো বাংলা ভাষায় পদের সঠিক ব্যবহার ও বাক্য গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

Ad 1