২০০১ বা ২ সাল। আমাদের মাটির ঘরের পেছনে দুটো নারিকেল গাছ। তার পাশেই চারখানি আকাশচুম্বী সুপারীর বৃক্ষ। বাতাসে সুপারীর গাছগুলো অস্বাভাবিকভাবে বাঁকে। মনে হয় পূর্বদিকে ঢলে পড়বে। পূর্বে কাঁঠাল গাছ। গাছের উপরের ডালগুলো শুকিয়ে গেছে। এটা নিয়ে আমার মন খারাপ। দাদা আবুল হাসেম দপ্তরী এই গাছের মালিকানা আমাকে দিয়েছেন। জাফিনের কাঁঠালগাছ হিসেবে এর নাম আছে। গাছে শ্যাওলা পড়েছে কালচে জলপাইরঙা ছোপছোপ শ্যাওলা। এই কাঁঠালের কোষগুলো ছোট, কমলা লাল রঙের। বেশি নরম বা শক্ত নয়। মিষ্টি স্বাদের এই কাঁঠাল আমি কাউকেই দিতে চাই না। কাঁঠাল আকারে ছোট হয়, কিন্তু স্বাদে দুনিয়াশ্রেষ্ঠ।
গাছের পাশেই একটা বাঁকা পাতাবাহার গাছ। এই গাছের নিচে মার্বেল খেলা হয়। আমরা সেই স্থান প্রস্তুত করছি। পাতাবাহারের গাছের পাশে আমাদের দক্ষিনের বারান্দা। বারান্দায় চারটি চারকোনা পিলার। শেষের খুঁটিটি আমাদের ক্রিকেটের স্ট্যাম্প।বারান্দা ঘেঁষে একটা সবুজ রঙের জানালা। জানালায় ৪টি লোহার শিক। জানালার পাশেই আমাদের ঘুমানোর খাট। দুপুর আর রাতে আমি আর আমার দাদা এখানে একটা লাল নীল ছোপানো লম্বাটে দস্তরখানা বিছাই। খাবার খাই।
আজ আকাশে জ্বলজ্বলে রোদ।মৃদু বাতাস। পাতাবাহারের পাতাগুলো বারান্দার টিনে ঘচঘচ করছে। আমাদের মার্বেল খেলার জন্য মাঠ রেডি হচ্ছে।
একটা আধবয়েসী আধপাগল লোক কোথা থেকে যেন আসলো। সে উঠান ঝাড়ু দিচ্ছে। আম্মা জিজ্ঞেস করলেন
তোমার নাম কি?
সাইদুল ইসলাম বাহার।
তার সামনের দাঁতগুলো লম্বা। দাঁতাল হওয়ায় তার অধিকাংশ কথাই অস্পষ্ট। সে আমাকে খালাতো ভাই জ্ঞান করা শুরু করলো।

একটা সিরিজ গল্প
উত্তরমুছুন