১. নবাবি শাসন বলতে কী বোঝ?
উত্তর: নবাবি শাসন হলো বাংলার মুঘল শাসনের দুটি ধাপের একটি অংশ। মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের পর দুর্বল উত্তরাধিকারীদের যুগে মুঘল শাসন শক্তিহীন হয়ে পড়ে। এ সুযোগে বাংলার সুবাদারগণ প্রায় স্বাধীনভাবে বাংলা শাসন করতে থাকেন। এ যুগ নবাবি শাসন নামে পরিচিত। নবাবি শাসকদের মধ্যে অন্যতম হলেন-মুর্শিদ কুলী খান, আলীর্বদী খান, সিরাজউদ্দৌলা।
২. জিয়াউদ্দিন বারানী বাংলাদেশের নাম বুলগাকপুর দিয়েছিলেন কেন?
উত্তর: জিয়াউদ্দিন বারানি বাংলাদেশের নাম বুলগাকপুর বা বিদ্রোহের নগরী দিয়েছিলেন। কারণ- মুসলিম শাসনের প্রথম পর্যায়ে শাসনকর্তারা পুরোপুরি স্বাধীন ছিল না। শাসকদের সবাই দিলিস্নর সুলতানের অধীনে বাংলার শাসনকর্তা হয়ে এসেছিলেন। পরবর্তীতে অনেক শাসনকর্তাই দিলিস্নর বিরম্নদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং স্বাধীন হওয়ার দাবি জানায়। কিন্তু দিলিস্নর আক্রমণের মুখে বাংলার সুলতানদের স্বাধীনতার বাসনা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। তাই মুসলিম শাসনের এই যুগ ছিল বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলাপূর্ণ।
৩. মামলুক কাদের বলা হয়?
উত্তর: ইওজ খলজির মৃত্যুর পর থেকে ১২৮৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যšত্ম ষাট বছর বাংলা দিলিস্নর মুসলমান শাসকদের একটি প্রদেশে পরিগণিত হয়। এ সময় পনেরোজন শাসনকর্তা বাংলা শাসন করেন। এদের দশ জন ছিলেন দাস। দাসদের ‘মামলুক’ বলা হয়।
৪. স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা হয় কীভাবে?
উত্তর: ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের মৃত্যু হয়। বাহরাম খানের বর্মরড়্গক ছিলেন ‘ফখরা’ নামের একজন রাজকর্মচারী। প্রভুর মৃত্যুর পর তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং ‘ফখরম্নদ্দিন মুবারক শাহ’ নাম নিয়ে সোনারগাঁওয়ের সিংহাসনে বসেন। এভাবেই সূচনা হয় বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের।
৫. বাংলায় স্বাধীন সুলতানি শাসনের ইতিহাস সংড়্গেেপ লেখ।
উত্তর: দিলিস্নর সুলতানগণ ১৩৩৮ থেকে ১৫৩৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যšত্ম দুইশত বছর বাংলাকে তাদের অধিকারে রাখতে পারেননি। প্রথমদিকে দিলিস্নর সুলতানের সৈন্যবাহিনী আক্রমণ চালিয়েছে। চেষ্টা করেছে বাংলাকে নিজের অধিকারে আনার জন্য। অবশেষে সফল হতে না পেরে হাল ছেড়ে দিয়েছে। এ সময়ে বাইরের অন্য কোনো আক্রমণেরও তেমন সম্ভাবনা ছিল না। তাই বাংলার সুলতানগণ স্বাধীনভাবে এবং নিশ্চিšেত্ম এদেশ শাসন করতে পেরেছেন। ফখরম্নদ্দিন মুবারক শাহের মাধ্যমে স্বাধীনতার সূচনা হলেও ইলিয়াস শাহী বংশের সুলতানদের হাতে বাংলা প্রথম স্থিতিশীলতা লাভ করে।
৬. স্থাপত্যশিল্পের প্রতি আলাউদ্দিন হুসেন শাহের দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: স্থাপত্যশিল্পে হুসেন শাহ উদার পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেছিলেন। গৌড়ের ছোট সোনা মসজিদ সহ অসংখ্য মসজিদ নির্মিত হয়েছিল এ সময়ে। ইসলামি সংস্কৃতির বিকাশের জন্য অনেক খানকাহ ও মাদ্রাসা নির্মিত হয়েছিল। হুসেন শাহ গৌড়ে একটি দুর্গ ও তোরণ, মালদহে একটি বিদ্যালয় ও একটি সেতু নির্মাণ করেছিলেন। এ সকল মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকাহ, দুর্গ ও তোরণ হুসেন শাহের স্থাপত্য প্রীতির পরিচয় বহন করে।
৭. বাংলায় শূর শাসন প্রতিষ্ঠায় শেরশাহ শূর-এর ভূমিকা কী ছিল?
উত্তর: ১৫৩৮ খ্রিষ্টাব্দে স্বাধীন সুলতানি যুগের অবসান ঘটিয়ে শের শাহ শূর বাংলায় শূর বংশের প্রতিষ্ঠা করেন। শেষ স্বাধীন সুলতান মাহমুদ শাহকে পরাজিত করে তিনি বাংলায় শূর বংশ প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাকে দিলিস্নর অধীনে আনার জন্য সম্রাট হুমায়ুনের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। সমগ্র ভারতের অধিপতি হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি চুনার দুর্গ ও বিহার অধিকার করেন। ১৫৩৭ খ্রিষ্টাব্দে দু’বার গৌড় আক্রমণ করেন। চৌসার যুদ্ধে হুমায়ুনকে পরাজিত করে বিহারের অধিপতি হন। অতঃপর ১৫৪০ খ্রিষ্টাব্দে মুঘল শাসনকর্তা আলী কুলীকে পরাজিত করে বাংলায় শূর বংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
৮. বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কীভাবে?
উত্তর: বাংলা হতে হুমায়ুন বিতাড়িত হলেও সম্রাট আকবর ১৫৭৬ খ্রিষ্টাব্দের রাজমহলের যুদ্ধে জয়লাভ করে বাংলা জয় করেন। কররাণি বংশের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রথমে মুনিম খানকে দাউদ কররাণির বিরম্নদ্ধে প্রেরণ করেন। মুনিম খান তা-া অধিকার করে মুঘল বাংলার রাজধানী স্থাপন করেন। মুনিম খানের মৃত্যুতে পরবর্তী শাসনকর্তা খান জাহান হুসেন কুলী খান ১৫৭৬ খ্রিষ্টাব্দে রাজমহলের যুদ্ধে দাউদ খান কররাণি ও মুজাফফর খান তুরবাতিকে পরাজিত করে বাংলায় মুঘল শাসনের সূত্রপাত করেন। এভাবে বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা পায়।