ইতিহাস সৃজনশীল

  সুলতান গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি বাংলায় মুসলমান শাসকদের মধ্যে নৌবাহিনীর গোড়াপত্তন করেন।

 খ বাংলায় মুসলমান শাসন প্রতিষ্ঠার সূচনা করেন বখতিয়ার খলজি। এ পর্বের প্রথম পর্যায় ছিল ১২০৪ থেকে ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যšত্ম। এ যুগের শাসনকর্তাদের পুরোপুরি স্বাধীন বলা যাবে না। এদের কেউ ছিলেন বখতিয়ারের সহযোদ্ধা খলজি মালিক। আবার কেউ কেউ তুর্কি বংশের শাসক। শাসকদের সকলেই দিলিস্নর সুলতানদের অধীনে বাংলার শাসনকর্তা হয়ে এসেছিলেন। পরবর্তীকালে অনেক শাসনকর্তাই দিলিস্নর বিরম্নদ্ধে বিদ্রোহ করে স্বাধীন হতে চেয়েছেন। তবে এদের বিদ্রোহ শেষ পর্যšত্ম সফল হয়নি। দিলিস্নর আক্রমণের মুখে তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। মুসলিম শাসনের এ যুগ ছিল বিদ্রোহ-বিশৃঙ্খলায় পূর্ণ। তাই ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানি বাংলাদেশের নাম দিয়েছিলেন ‘বুলগাকপুর’। এর অর্থ ‘বিদ্রোহের নগরী’।

 গ উদ্দীপকে উলিস্নখিত দুর্জয়ের শায়ে¯ত্মা খানের শাসনামলের কথা মনে পড়ে। শায়ে¯ত্মা খান তার শাসন আমলের বিভিন্ন জনহিতকর কার্যাবলির জন্য স্মরণীয় হয়ে রয়েছেন। দিলিস্নর সম্রাট আওরঙ্গজেব তার মামা শায়ে¯ত্মা খানকে (১৬৬৪১৬৮৮ খ্রিষ্টাব্দ) বাংলার সুবাদার নিয়োগ দেন। তিনি ছিলেন একজন সুদড়্গ সেনাপতি ও দূরদর্শী শাসক। তার শাসন আমলে বাংলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কারণে তিনি বিভিন্ন জনহিতকর কার্যাবলি সম্পাদন করতে সড়্গম হয়েছিলেন। তার সময়ে সাম্রাজ্যের সর্বত্র অসংখ্য সরাইখানা, রা¯ত্মা ও সেতু নির্মিত হয়েছিল। দেশের অর্থনীতি ও কৃষিড়্গেেত্র তিনি অভাবিত সমৃদ্ধি আনয়ন করেছিলেন। জনকল্যাণকর শাসনকার্যের জন্য শুধু বাংলায় নয়, সমগ্র ভারতবর্ষেও তিনি খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তার সময়ে দ্রব্যমূল্য এত স¯ত্মা ছিল যে, টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত। আলোচ্য উদ্দীপকে অমরা দেখি, উক্ত সময়ে উৎপাদিত দ্রব্য ছিল খুবই স¯ত্মা। সুতরাং আমরা বলতে পারি আলোচ্য উদ্দীপকে দুর্জয়ের শায়ে¯ত্মা খানের শাসনের কথা মনে পড়ে যায়।

  শাসক শায়ে¯ত্মা খানের শাসনামলকে স্থাপত্যশিল্পের স্বর্ণযুগ বলাকে আমি যৌক্তিক মনে করি। সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে মীর জুমলার মৃত্যুর পর সম্রাটের মামা শায়ে¯ত্মা খানকে (১৬৬৪১৬৮৮ খিষ্টাব্দ) বাংলার সুবাদার নিয়োগ দেওয়া হয়। শায়ে¯ত্মা খান ছিলেন একজন সুদড়্গ ও দূরদর্শী শাসক। তার শাসনামলে বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল সমৃদ্ধ। এই সময় তিনি বিভিন্ন জনহিতকর কার্যাবলির সাথে বাংলার স্থাপত্যশিল্পেরও উৎকর্ষ সাধন করেন। তার শাসনকাল বাংলার স্থাপত্যশিল্পের জন্য সবিশেষ উলেস্নখযোগ্য। বিচিত্র সৌধমালা, মনোরম সাজে সজ্জিত তৎকালীন ঢাকা নগরী স্থাপত্যশিল্পের প্রতি তার গভীর অনুরাগের সাড়্গ্য বহন করে। স্থাপত্যশিল্পের বিকাশের জন্য এ যুগকে বাংলায় মুঘলদের ‘স্বর্ণযুগ’ হিসেবে অভিহিত করা যায়। তার আমলে নির্মাণ করা স্থাপত্যকার্যের মধ্যে ছোট কাটরা, লালবাগ কেলস্না, বিবি পরীর সমাধি-সৌধ, হোসেনি দালান, সফীখানের মসজিদ, বুড়িগঙ্গার মসজিদ, চক মসজিদ প্রভৃতি উলেস্নখযোগ্য। মোটকথা, অন্য কোনো সুবাদার বা শাসনকর্তা ঢাকায় শায়ে¯ত্মা খানের ন্যায় নিজের স্মৃতিকে এত বেশি জ্বলšত্ম রেখে যেতে পারেননি। বস্তুত, ঢাকা ছিল শায়ে¯ত্মা খানের নগরী। আর উলিস্নখিত স্থাপত্যশিল্পের নিদর্শনের কারণে শায়ে¯ত্মা খানের শাসনামলকে স্থাপত্যশিল্পের স্বর্ণযুগ বলা হয়। সুতরাং উক্তিটি যথার্থ।




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

Ad 1

Ad