বাংলাদেশি একজন বিজ্ঞানীর কাজ আমাকে ঈর্ষান্বিত করে। কিন্তু এই ঈর্ষা আনন্দের এবং গর্বের। তিনি প্রফেসর জাহিদ হাসান। প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির প্রফেসর।
এই লোকটা হলেন গবেষকদের গবেষক। বিশ্বমানের বিজ্ঞানী বলতে যা বুঝায়, তিনি তাই। তিনি মৌলিক গবেষণা করেন। তার কাজ প্রকাশিত হয় পৃথিবী সেরা জার্নালে। তার গবেষণা এরিয়াতে, তাকে চেনে না, এমন কোন বিজ্ঞানী পৃথিবীতে নেই।
উনার মতো মানুষ পাবেন ডিরাক মেডেল। উলফ প্রাইজ। নোবেল প্রাইজ।
তার সম্পর্কে জানাও আমাদের অসংখ্য তরুণদের জন্য একটা অনুপ্রেরণা। জাহিদ হাসান সম্পর্কে, প্রফেসর সাইফ ইসলাম একবার আমাকে বলেছিলেন–বাংলাদেশ সরকারের উচিত, প্রতিবছর জাহিদকে দেশে নিয়ে উপস্থাপন করা।
কিন্তু কে করবে? কয়জন এসব খোঁজ রাখে? আমরা কিছু মানুষ রাখি। তাই হয়তো বলে যাই। বাংলাদেশ এখনো গুণীকে সেভাবে সম্মান দিতে জানে না। গুণীকে তুলে ধরে অনাগত গুণী তৈরিতে প্রস্তুত হয়নি।
আমি প্রায়ই ভাবি, প্রফেসর জাহিদ হাসানের মতো খ্যাতিমান বিশজন বাংলাদেশী বংশদ্ভুত বিজ্ঞানী যদি পৃথিবীতে থাকতো, তাহলে তারা আমাদের কতো বড়ো এম্বাসেডর হতে পারতেন। আমাদেরকে গর্বিত করতেন। আমাদের কতো কতো তরুণ আরো অনুপ্রাণিত হতো।
তার মতো এমন অনেক বিজ্ঞানী বাংলাদেশে তৈরি করতে হবে। তাহলে বাংলাদেশের অসংখ্য টেলেন্টেড ছেলে-মেয়ে, দেশেই পাবে জগৎ সেরা মেন্টর। সেটা হয়তো ২০৫০ সালে হবে না। কিন্তু ২১০০ সালে হতে হবে।
জাহিদ হাসান নোবেল প্রাইজ পাবেন কিনা জানি না। যদিও বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পাওয়া খুবই কঠিন, খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক এবং অনেক বড়ো ব্রেইকথ্রু লাগে। তবুও চাই, তিনি নোবেল পুরস্কার পান। তিনি ৫৪ বছর বয়সী। এখনো অনেক সময় আছে। বাংলাদেশে বসে কাজ করে তো বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পাওয়া এখন সম্ভব না। অন্তত বাংলাদেশী বংশদ্ভুত একজন বিজ্ঞানীও যদি বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পায়, সেটা আমাদের জন্য অনেক গৌরবের।
আমি আগেও লিখেছিলাম, বিজ্ঞানী জাহিদ হাসানের কথা আমাদের স্কুলের বইতে থাকা উচিত। আমাদের শিশু-কিশোররা অনুপ্রাণিত হবে। এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। আশা করি কেউ না কেউ সেটা করবে।
Tags
physics
